নোয়াখালী সোসাইটির উদ্যোগে লক্ষাধিক কবরস্থান নিয়ে || বাংলাদেশ সেমিটারির উদ্বোধন ২০ জুন
নিউইয়র্ক (ইউএনএ)ঃ বৃহত্তর নোয়াখালী সোসাইটি ইউএসএ’র উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত নিউইয়র্কে বাংলাদেশীদের সর্ববৃহৎ সেমিটারি ‘স্কচটাউন বাংলাদেশ সেমিটারি’র আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হবে আগামী ২০ জুন শনিবার। সকল বাধা—বিপত্তি আর মিথ্যা প্রচারনা কাটিয়ে অবশেষে এই কবরস্থান উদ্বোধনের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে বলে উদ্যোক্তারা জানান। এ উপলক্ষে সেমিটারি প্রাঙ্গনে (২৪০ কনরস রোড, স্কচটাউন, নিউইয়র্ক ১০৯৪১) ঠিকানায় এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে। বৃহস্পতিবার ১১ জুন জ্যাকসন হাইটসের একটি রেস্টুরেন্টে আয়োজিত জনাকীর্ণ এক সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ সেমিটারি’র মুখ্যপাত্র ও বৃহত্তর নোয়াখালী সোসাইটির নবনির্বাচিত সভাপতি জাহিদ মিন্টু এসব তথ্য জানান।
বৃহত্তর নোয়াখালী সোসাইটি ইউএসএ’র প্রথম নির্বাচিত সহ সভাপতি ও ট্রাষ্টি বোর্ডের সদস্য রফিকুল ইসলাম ভূইয়া’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সংগঠনের অন্যতম সিনিয়র সহ সভাপতি তাজু মিয়া। এরপর নবনির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক এএসএম মাইন উদ্দীন পিন্টু’র সঞ্চালনায় সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন সংগঠনের ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক মাওলানা মঞ্জুরুল করীম। সংবাদ সম্মেলনে সোসাইটি ট্রাষ্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান হাজী মফিজুর রহমান, সাবেক সভাপতি আব্দুর রব মিয়া, ট্রাষ্টি বোর্ড সদস্য খোকন মোশারফ, আবুল কালাম, উপদেষ্টা হাজী মমিনুল হক, মোস্তাক মোশাররফ, শাহ আবু নাসের সুমন, আব্দুল মালেক খান ও মাইন উদ্দীন মাহবুব, লক্ষীপুর জেলা সমিতি ইউএসএ’র সভাপতি মোহাম্মদ আলী সহ নোয়াখালী সোসাইটি’র অন্যান্য কর্মকর্তাগণ যারা উপস্থিত ছিলেন তাদের পরিচয় করিয়ে দেয়া হয়।
সংবাদ সম্মেলনে জাহিদ মিন্টু তার লিখিত বক্তব্যে বলেন, প্রবাসের অন্যতম আঞ্চলিক সংগঠন গ্রেটার নোয়াখালী সোসাইটির উদ্যোগে বাংলাদেশ সেমিটারি গড়ে তোলার লক্ষ্যে নিউইয়র্কের আপস্টেটে প্রায় এক শত ২৬ একর জমি ক্রয় করা হয়। বৃহত্তর নোয়াখালীবাসীর আন্তরিক ও ঐকান্তিক সহযোগিতায় ২০২৪ সালের ১৬ ডিসেম্বর আমরা নগদ অর্থে বাংলাদেশ সেমিটারির জন্য জমি ক্রয় করি। বাংলাদেশ সেমিটারিতে প্রায় ১ লাখের অধিক কবর তৈরি করা হবে পর্যায়ক্রমে। প্রবাসে বাঙালিদের সর্ববৃহৎ কবরস্থানের কাজ আমরা গত ৩১ জুলাই ২০২৫ সালে শুরু করি। এই বিশাল কর্মযজ্ঞ সম্পন্ন করতে গিয়ে আমাদের নানা প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হতে হয়েছিলো। সেই সাথে ছিলো ক্ষুদ্র একটি অংশের অপ—প্রচার। আল্লাহর অশেষ রহমতে এবং আপনাদের সকলের দোয়ায় আমরা সকল বাধা অতিক্রম করেছি।
তিনি বলেন, আগামী ১ জুলাই ২০২৬ সাল থেকে আমরা কবরের জন্য স্থান দেয়া শুরু করতে যাচ্ছি। সে জন্যই আজকের সংবাদ সম্মেলন। আপনাদের সাথে নিয়েই এই প্রজেক্ট শুরু করেছিলাম, তাই খুশির খবরটি আপনাদের সাথে শেয়ার করছি। ১ জুলাই কবরের স্থান দেয়ার কাজ শুরু করার আগে যারা বা যেসব প্রতিষ্ঠান আমাদের কাছ থেকে কবর ক্রয় করেছেন তাদের নিয়ে আরেকটি অনুষ্ঠান স্কটটাউন বাংলাদেশ সেমিটারিতে আগামী শনিবার ২০ জুন ২০২৬—এ অনুষ্ঠিত হবে। অনুষ্ঠানটি দুপুর ১২টায় শুরু হবে। যারা বা যে সব প্রতিষ্ঠান ইতিমধ্যেই আমাদের কাছ থেকে কবরের স্থান ক্রয় করেছেন, বুকিং মানি দেয়ার পর আর কোন অর্থ দেননি, যোগাযোগ রাখছেন না, তাদের উদ্দেশ্যে বলতে চাই— আপনাদের বাকি অর্থ অবশ্যই পরিশোধ করতে হবে। তা না হলে চুক্তি অনুযায়ী আপনাদের কবরের জায়গা বুঝিয়ে দেয়া সম্ভব হবে না। অর্থ পরিশোধ না করার কারণে আমরা মার্কিং এর কাজও শুরু করতে পারছি না। আশা করি এ ব্যাপারে তারা এগিয়ে আসবেন।
লিখিত বক্তব্যে জাহিদ মিন্টু আরো বলেন, কবরের স্থান দেয়ার কাজ শুরু করলেও আপাতত ফিউনারেলের কাজ আমরা করছি না। তবে কেউ সহযোগিতা চাইলে আমরা সবধরনের সহযোগিতা করবো। আমরা ফিউনারেল হোমের ব্যাপারে কাজ শুরু করেছি। আশা করি আগামীতে সেই ঘোষণাও আসবে। তিনি বলেন, প্রথম কিস্তিতে আমরা ২০ হাজার কবর বিক্রির প্রকল্প গ্রহণ করেছিলাম। আজ ১১ জুন ২০২৬ পর্যন্ত আমাদের প্রথম কিস্তির ২০ হাজার কবরের স্থান বিক্রি সম্পন্ন হয়েছে। আপনাদের অবগতির জন্য জানাচ্ছি যে, প্রতিটি কবর দেয়ার জন্য খরচ পড়বে ২৫০০ ডলার। শিশুদের জন্য ১২০০ ডলার (ইনফেন্ট)। হেড স্টোনের খরচ পড়বে ১২৫০ ডলার। সব হেড স্টোন একই ধরনের হবে। স্কটটাউন বাংলাদেশ সেমেটারির প্রাঙ্গনে জানাজা পড়ার ব্যবস্থা থাকবে অস্থায়ী ভবনে। থাকবে পানির ব্যবস্থা ও ওজু করার ব্যবস্থাও। স্থায়ী ভবনের কাজ অচিরেই শুরু হবে। কবর খোড়া, লাশ নামানোসহ সমস্ত কাজ মেশিনের মাধ্যমে করা হবে। ইতিমধ্যেই সকল যন্ত্রপাতি ও মেশিন ক্রয় করা হয়েছে। লোকও নিয়োগ দেয়া হয়েছে। আপাতত সোমবার থেকে শনিবার পর্যন্ত সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত লাশ দাফন করা যাবে। রোববার লাশ দাফন করা যাবে আলোচনা সাপেক্ষে।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, আগামী জুলাই— আগস্ট থেকে দ্বিতীয় কিস্তির কবরের কাজ শুরু। দ্বিতীয় কিস্তিতে কবরের স্থানের সংখ্যা হবে প্রায় ৪২ হাজার। বৃহত্তর নোয়াখালি সোসাইটির কর্মকর্তা, ট্রাস্টি এবং উপদেষ্টারদের সাথে আলাপ আলোচনার মাধ্যমে দ্বিতীয় কিস্তির কবরের মূল্য নির্ধারণ করা হবে।
জাহিদ মিন্টু পরে উপস্থিত সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন।
