৮ হাজার কোটি ডলারের বিশ^কাপ শুরু

বিশেষ প্রতিবেদনঃ বিশ্ব ক্রীড়ার মঞ্চে বিশ্বকাপ ফুটবল যে বাস্তবেও মহাযজ্ঞ তা প্রমাণ হচ্ছে প্রতিদিনই। দুই মহাদেশে তিন দেশ জুড়ে যে বিশ্ব ফুটবলের এই আসর শুরু হলো তা একদিকে ছিল শাকিরার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আলোর ঝলক, অপরদিকে প্রথম দিনেই তিনটি লাল কার্ড সেই আলোর ঝলকানিতে কিছুটা আঁধারের চির হয়ে এলো। একবিংশ শতকের এই প্রায় হাজার কোটি ডলারের মহাযজ্ঞের সূচনা মেক্সিকোর আজটেক সভ্যতার মন্তাজ তুলে ধরার পাশাপাশি আজ নিউইয়র্কনিউজার্সি স্টেডিয়ামে যে আসর বসবে তাতে একদিকে অন্য এক উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের প্রতীক্ষা, অন্যদিকে ব্রাজিল আর মরক্কোর খেলা দেখার রুদ্ধশ্বাস অপেক্ষা। স্টেডিয়ামের ৮০ হাজার দর্শকের পাশাপাশি আমেরিকা জুড়ে হাজার হাজার ওয়াচ পার্টির লক্ষ লক্ষ দর্শক আর ঘরে ঘরে কোটি কোটি দর্শকের যে আগ্রহ তা প্রমাণ করে বিশ্বকাপ ফুটবল শুধু খেলা নয়, এই দুঃসহ ওলোটপালট বিশ্বব্যবস্থায় এক পশলা বাতাস আর কয়েকটি দিন আনন্দে বেঁচে থাকার ফুরসত।

প্রাপ্ত খবরে বলা হয়েছেঃ 

শাকিরার সুরে পর্দা উঠল বিশ্বকাপের

স্টেডিয়ামের মাঝখানে বিশ্বকাপের বেশ বড় সোনালি ট্রফি। চারপাশে সোনালি পোশাকের পারফরমার। আজতেক সভ্যতার সোনালি সময় ফুটে উঠেছে তাঁদের পোশাক নাচের ঢঙে। লিলা ডাউনস দাঁড়িয়ে তাঁর মাঝে। সুরেলা কণ্ঠে এই মেক্সিকান সংগীতশিল্পী স্বাগত জানালেন বিশ্বকে, ‘বিশ্ববাসী, মেক্সিকোয় স্বাগত!’ ব্যস, ঢাকে কাঠি পড়ল ২০২৬ বিশ্বকাপের। রঙিন আবির ছড়িয়ে পড়ল আজতেকা স্টেডিয়ামের চারপাশে। ওটা ফুটবলেরক্যাথেড্রাল’—তিনটি বিশ্বকাপের উদ্ধোধন হওয়া ইতিহাসের প্রথম এবং একমাত্র স্টেডিয়াম। সেই আজতেকাতেই বিশ্বকাপেরপ্রথমউদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশ্ববাসীকে স্বাগত জানাল মেক্সিকো।

প্রথম বলার কারণ, সহআয়োজক দুই দেশ যুক্তরাষ্ট্র কানাডাতেও উদ্বোধনী অনুষ্ঠান হবে। তবে আজতেকার ইতিহাস এবং ঐতিহ্য বিচারে বিশ্বকাপের আসল উদ্বোধন হয়ে গেল আসলে সেখানেই। মেক্সিকোর কিংবদন্তি রক ব্যান্ড মানা মঞ্চেওই মি আমোর’ (হে, আমার ভালোবাসা) গানের সুর তুলতেই গ্যালারিতে জন্ম হলোমেক্সিকান ওয়েভ হাত ছড়িয়ে দর্শকদের তোলা সেই ঢেউ ছুঁয়েছে পর্দার দর্শকের হৃদয়ও।

ভেনেজুয়েলার গায়ক ড্যানি ওশান পারফর্ম করার পর মেক্সিকান মিউজিক্যাল গ্রুপ লস অ্যাঞ্জেলেস আজুলসের সঙ্গে ফোক ব্যালে পারফরম্যান্স ছিল নজরকাড়া। এরপর এলেন কলোম্বিয়ান গায়ক জে বলভিন। কিন্তু মজাটা যেন তখনো সেভাবে ঠিক জমছিল না। কারণ, বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানেররানিতখনো মঞ্চে আসেননি।

শাকিরা! হলুদ, বেগুনি সাদা পোশাকে যখন মঞ্চে উঠলেন, তখন যেন শুরু হলো বিশ্বকাপের আসল ঢেউ। সানগ্লাস চোখে পারফরমারদের নিয়েদাই দাইগানের সুর ধরেন শাকিরা। নাইজেরিয়ান গায়ক বার্না বয়ও ভালো সঙ্গ দেন কলোম্বিয়ান কিংবদন্তিকে। কিন্তু সব চোখ আসলে শাকিরার ওপরই ছিল। শাকিরা ছাড়া বিশ্বকাপ আবার জমে নাকি! ২০১০ বিশ্বকাপেওয়াকা ওয়াকাগান দিয়েই তো চিরস্মরণীয় হয়ে গেছেন।

অলিম্পিক অনুষ্ঠানের মতো বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া সবগুলো দেশের পতাকা নিয়ে প্রতিনিধিরা ছিলেন মাঠে। প্রতিটি দেশের নামও ঘোষণা করেন ঘোষক। ৪৮টি দেশ নিয়ে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বিশ্বকাপেরপ্রথমউদ্বোধনী এই অনুষ্ঠানে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো ট্রফিটি তুলে ধরার সঙ্গে সঙ্গে গর্জনে ফেটে পড়ে ৮০ হাজার আসনের গ্যালারি।

বিশ্বকাপের উৎসব যে ততক্ষণে জমে গেছে, সেটা বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন এক ফুটবলপ্রেমী, ‘পার্টি এরই মধ্যে শুরু হয়ে গেছে। অসাধারণ লাগছে।স্টেডিয়ামে যখন এমন উৎসবের সুর, তখন মেক্সিকো সিটিতে বিশ্বকাপের ফ্যান জোনে ঢুকতে রীতিমতো লড়াই করতে হয়েছে ফুটবলপ্রেমীদের। ধাক্কাধাক্কিতে ধৈর্য হারিয়ে কেউ কেউ বোতলও ছুড়ে মারেন। নিরাপত্তারক্ষীদের সঙ্গে লেগে যায় দর্শকদেরও।

ব্যবস্থাপনা নিয়ে এক দর্শকের অভিযোগ, ‘অবিশ্বাস্য উন্মাদনা। ব্যবস্থাপনা আরও ভালো হতে পারত।তবে ফ্যান জোন আগেই দর্শকে টইটম্বুর হয়ে পড়ায় স্থানীয় প্রশাসন আগেই দর্শকদের অন্য কোথাও যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছিল। কিন্তু সব জায়গাতেই প্রচুর ভিড় জমেছিল দর্শকের।

আজতেকাকেও সাজানো হয়েছিল নতুন করে। লাল রঙে স্টেডিয়ামের চারপাশটা রাঙানো হয়। বিভিন্ন রঙের আবির আলোকসজ্জা, বাদ্যবাজনায় ভরপুর হয়ে উঠেছিল উদ্বোধনের উৎসব। মেক্সিকো দক্ষিণ আফ্রিকা দল মাঠে ঢোকার পরও গ্যালারিতে বসে গান শুনেছেন দর্শক।

খেলা শুরুর মিনিট বিশেক আগে গ্যালারিতেমেক্সিকান ওয়েভ’—এর ঢেউ ফিরিয়ে আনেন তাঁরা।৮৬ বিশ্বকাপে এই আজতেকা স্টেডিয়ামেই জন্ম হয়েছিল দর্শকদের এমন উন্মাদনার। তার ১৬ বছর আগে৭০ বিশ্বকাপও আয়োজিত হয়েছিল আজতেকায়।

রেকর্ড তিন লাল কার্ডের ম্যাচে মেক্সিকোর জয়ে শুরু বিশ্বকাপ

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচটি শুধু গোল কিংবা খেলার মানের জন্য নয়, বরং রেফারি উইলতন সাম্পাইওর লাল কার্ডের ছড়াছড়ির জন্য দীর্ঘদিন ফুটবলপ্রেমীদের মনে গেঁথে থাকবে। মেক্সিকো সিটির আজতেকা স্টেডিয়ামে স্বাগতিক মেক্সিকোর বিপক্ষে ম্যাচটি দক্ষিণ আফ্রিকার জন্য ছিল এক বিভীষিকাময় অভিজ্ঞতা। ফুটবল বিশ্বকাপের ৮৬ বছরের দীর্ঘ পথচলায় এমন ঘটনা আগে কখনো ঘটেনি। বিশ্বকাপে এই প্রথম কোনো ম্যাচে মোট তিনটি লাল কার্ড দেখার সাক্ষী হলো ফুটবল বিশ্ব। এই অনাকাক্সিক্ষত রেকর্ডের ম্যাচে গোলে মেক্সিকোর জয়ের চেয়েও মাঠের শৃঙ্খলা কার্ডের বিতর্কই এখন আলোচনার কেন্দ্রে।

ম্যাচের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত মেক্সিকো যে ফুটবল খেলেছে, তা ছিল আধুনিক কৌশলের দারুণ প্রদর্শনী। শুরুতেইহাই প্রেসিংফুটবলে দক্ষিণ আফ্রিকাকে রীতিমতো কোণঠাসা করে ফেলেছিল স্বাগতিকরা। ম্যাচের মিনিটে প্রোটিয়া রক্ষণের ভুলে গোল করে কিনিয়োনেস যে সুর বেঁধে দিয়েছিলেন, তাতে পুরো ম্যাচে মেক্সিকোর দাপটই বজায় ছিল। তবে আজকের এই জয়ের সবচেয়ে বড় গল্পটি হয়তো রাউল হিমেনেসের। ক্যারিয়ারের চতুর্থ বিশ্বকাপ খেলতে নেমে নিজের গোলখরা কাটানোর যে ব্যাকুলতা তাঁর চোখেমুখে ছিল, ৬৭ মিনিটে জালের ঠিকানা পাওয়ার পর তা অশ্রুতে রূপ নেয়। এই গোলটির মাধ্যমেই মেক্সিকোর সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় ৪৬ গোল নিয়ে জারেদ বোর্গেত্তির সঙ্গে যৌথভাবে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এলেন তিনি। চিচারিতোর ৫২ গোলের রেকর্ড এখন আর খুব বেশি দূরে নয়, যা হিমেনেসের বর্তমান ফর্ম বিবেচনায় সময়ের ব্যাপার বলেই মনে হচ্ছে।

৫০ মিনিটে স্পেপেলো সিথোলের লাল কার্ড যেন প্রোটিয়াদের ম্যাচে ফেরার সব পথ বন্ধ করে দেয়। ৩২ বছর পর বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে লাল কার্ডের এই অনাকাক্সিক্ষত রেকর্ড গড়ার ক্ষত তখনো শুকোয়নি।

৬৬ মিনিটে রাউল হিমেনেস গোল করে মেক্সিকোর ব্যবধান করেন। এই গোলের পর দক্ষিণ আফ্রিকার খেলোয়াড়দের মধ্যে মেজাজ হারানোর প্রবণতা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ৮৩ মিনিটে মেক্সিকোর আলভারাদোর মুখে আঘাত করে থেম্বা জাওয়ামে সরাসরি লাল কার্ড দেখলে দলটি জনের দলে পরিণত হয়।

মাত্র জনের দল নিয়ে লড়াই করে ম্যাচে টিকে থাকা অসম্ভব ছিল, আর মেক্সিকো সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে পুরো ম্যাচ নিজের নিয়ন্ত্রণে রেখেছিল।

তবে সেখানেই নাটকীয়তার শেষ ছিল না। অতিরিক্ত সময়ের ৯৩ মিনিটে মেক্সিকোর সিজার মোন্তেসকেও রেফারি সরাসরি লাল কার্ড দেখালে ম্যাচটি একটি ভিন্ন মাত্রা পায়। বিশ্বকাপে একই ম্যাচে তিন লাল কার্ডের ঘটনা ফুটবল ইতিহাসের পাতায় এক নতুন অধ্যায় যোগ করেছে। রেফারি সাম্পাইওর এমন কড়া সিদ্ধান্তে মোন্তেস নিজেও বেশ হতবাক ছিলেন।

২০১০ সালের বিশ্বকাপে জোহানেসবার্গে এই দুই দলের লড়াই ছিল ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম স্মরণীয় ম্যাচ। সেই লড়াই ড্র হয়েছিল। কিন্তু আসতেকায় ইতিহাস উল্টে গেছে। জয়ের আনন্দ মেক্সিকোর জন্য কিছুটা ম্লান হয়েছে মোন্তেসের লাল কার্ডের কারণে।

হাজার কোটি ডলারের বিশ্বকাপ

টাকার অঙ্কে চোখ ধাঁধিয়ে যাওয়ার জোগাড়! উত্তর আমেরিকার তিন দেশযুক্তরাষ্ট্র, কানাডা আর মেক্সিকোর মাটিতে শুরু হয়েছে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ফুটবল বিশ্বকাপ। ফিফা বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) একটি যৌথ সমীক্ষা বলছে, এই বিশ্বকাপ থেকে তিন দেশের সম্মিলিত অর্থনৈতিক উৎপাদন (গ্রস ইকোনমিক আউটপুট) হতে পারে প্রায় হাজার ১০ কোটি ডলার! যদিও স্বাধীন অর্থনীতিবিদেরা একটু মুচকি হেসে বলছেন, ‘কাগজেকলমে সংখ্যাটা যত বড় দেখায়, বাস্তবে হয়তো ততটা ফলার সুযোগ নেই।অবশ্য যাঁরা শুধু ফুটবল রোমান্টিক, তাদের এই হিসাবনিকাশে কিছু যায় আসে না। ১১ জুন মেক্সিকো সিটির ঐতিহাসিক আজতেকা স্টেডিয়ামে যখন উদ্বোধনী বাঁশি বেজেছে, তখন চারপাশের এই বাণিজ্যিক হিসাবনিকাশ ভুলে ফুটবলপ্রেমীরা বুঁদ হয়েছেন মাঠের লড়াইয়ে। আর ১৩ জুলাই নিউজার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে যখন ফাইনাল শেষ হবে। ধারণা করা হচ্ছে, পুরো দুনিয়া ভেসে যাবে এক অভূতপূর্ব উন্মাদনায়।

ফুটবলকে আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে ১৯৯৮ সালের ফ্রান্স বিশ্বকাপ থেকে চলে আসা চিরচেনা ৩২ দলের ফরম্যাট এবার ভেঙে ফেলেছে ফিফা। ২০২৬ বিশ্বকাপে খেলছে রেকর্ড ৪৮টি দেশ। দল বাড়ায় ম্যাচের সংখ্যা ৬৪ থেকে একলাফে বেড়ে দাঁড়াচ্ছে ১০৪টিতে। টুর্নামেন্টের আয়ুও বেড়ে হচ্ছে প্রায় ছয় সপ্তাহ।

চারটি করে দল নিয়ে গড়া হয়েছে ১২টি গ্রুপ। আর এই নতুন কাঠামোর কারণে বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো যুক্ত হচ্ছেরাউন্ড অব ৩২বা শেষ ৩২এর নকআউট পর্ব। এশিয়া আর আফ্রিকার মতো অঞ্চলের জন্য বাড়তি কোটা রাখায় সুবিধা হয়েছে তথাকথিতছোটদেশগুলোর। যারা এত দিন বিশ্বমঞ্চে জায়গা পেতে হন্যে হয়ে লড়ত, তাদের সামনে এখন বড় স্বপ্ন দেখার সুযোগ। তবে এর পেছনে ফিফার যে নিখাদ বাণিজ্যও লুকিয়ে আছে, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। প্রতিটি ম্যাচের সম্প্রচার স্বত্ব যে পৌঁছে গেছে অবিশ্বাস্য উচ্চতায়!

অর্থনীতির মহাযজ্ঞ

টিকিট বিক্রি আর স্টেডিয়ামে দর্শকদের জন্য হটডগ বিক্রির বাইরেও বিশ্বকাপের একটা বিশাল অর্থনৈতিক বৃত্ত রয়েছে। ফিফাডব্লিউটিওর যৌথ সমীক্ষা অনুযায়ী, এই মহাযজ্ঞ বৈশ্বিক জিডিপিতে সরাসরি অবদান রাখবে হাজার ৯০ কোটি ডলার।

তবে মুদ্রার উল্টো পিঠও আছে। যুক্তরাষ্ট্রের কলেজ অব দ্য হলি ক্রসের স্পোর্টস ইকোনমিকসের অধ্যাপক ভিক্টর ম্যাথেসন নিউজউইককে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক লাভের অঙ্কটা প্রচারের চেয়ে অনেক কম হতে পারে। কারণ হিসেবে তিনি দেখাচ্ছেন আয়োজকদের আকাশচুম্বী খরচ আর টুর্নামেন্ট শুরুর অল্প সময় আগেও হাজার হাজার অবিক্রীত টিকিট।

তবু হিসাবনিকাশ থামছে না। টুর্নামেন্টের বেশির ভাগ ম্যাচ (৭৮টি) আয়োজন করে সিংহভাগ লাভ ঘরে তুলবে যুক্তরাষ্ট্র। কানাডা মেক্সিকো পাবে ১৩টি করে ম্যাচ। টুর্নামেন্ট চলাকালে প্রায় ৬৫ লাখ পর্যটক আয়োজক শহরগুলোয় যাবেন বলে আশা করা হচ্ছে। গড়ে ১২ দিন করে থাকা এই অতিথিরা দৈনিক ৪১৬ ডলার করে ওড়াবেন হোটেল, রেস্তোরাঁ আর যাতায়াতে যা সব মিলিয়ে দাঁড়াবে প্রায় হাজার ৪০০ কোটি ডলার! শুধু যুক্তরাষ্ট্রেই যাবেন ১২ লাখ ৪০ হাজার বিদেশি পর্যটক, যার ৬০ শতাংশ যাবেন প্রথমবারের মতো।

কর্মসংস্থানও কম নয়। আয়োজনের প্রস্তুতি পরিচালনা পর্যায়ে বিশ্বজুড়ে লাখ ২৪ হাজার পূর্ণকালীন কর্মসংস্থান তৈরি হয়েছে। শুধু যুক্তরাষ্ট্রেই ১১টি আয়োজক শহরজুড়ে নতুন কাজ পেয়েছেন প্রায় লাখ ৮৫ হাজার মানুষ। ট্যাক্স বাবদ তিন আয়োজক দেশ পকেটে পুরবে প্রায় ৯৪০ কোটি ডলার। লস অ্যাঞ্জেলেস একাই তাদের ৮টি ম্যাচ থেকে ৫৯ কোটি ৪০ লাখ ডলার কামানোর স্বপ্ন দেখছে, যা ক্যালিফোর্নিয়ার বিখ্যাতসুপার বোলইভেন্টের আয়কেও ছাড়িয়ে যাবে। আর ডালাসের এটিঅ্যান্ডটি স্টেডিয়ামের ম্যাচ থেকে আয় হবে প্রায় ৪০ কোটি ডলার।

প্রাইজমানি: ইতিহাসের সর্বোচ্চ

২০২৩২০২৬ চক্রে ফিফার আয় ছোঁবে হাজার ১০০ কোটি ডলার। স্বাভাবিকভাবেই এর বড় অংশ আসছে বিশ্বকাপ থেকে। আর তাই দলগুলোর জন্য পারফরম্যান্সভিত্তিক প্রাইজমানি ৫০ শতাংশের বেশি বাড়িয়ে করা হয়েছে ৬৫ কোটি ৫০ লাখ ডলার।

অংশগ্রহণকারী ৪৮টি দেশের প্রত্যেকে প্রস্তুতি খরচ বাবদ পাবে ১৫ লাখ ডলার। এমনকি কোনো ম্যাচ না জিতে বিদায় নিলেও প্রতিটি দেশের জন্য কোটি ৫০ লাখ ডলার নিশ্চিত! মেটলাইফের মঞ্চে যারা সোনালি ট্রফি উঁচিয়ে ধরবে, সেই চ্যাম্পিয়ন দল বাড়ি ফিরবে রেকর্ড কোটি ডলার নিয়ে। রানার্সআপ পাবে কোটি ৩০ লাখ ডলার। ছাড়া তৃতীয়, চতুর্থ কোয়ার্টার ফাইনালিস্টরা পাবে যথাক্রমে কোটি ৯০ লাখ, কোটি ৭০ লাখ এবং কোটি ৯০ লাখ ডলার করে। নতুন চালু হওয়া শেষ ৩২ থেকে বিদায় নেওয়া দলগুলো পাবে কোটি ১০ লাখ ডলার আর গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নেওয়া দলগুলোর পকেটে যাবে ৯০ লাখ ডলার।

খেলোয়াড় ছাড়ার ক্ষতিপূরণ হিসেবে ক্লাব বেনিফিট প্রোগ্রামের বাজেট ৭০ শতাংশ বাড়িয়ে ৩৫ কোটি ৫০ লাখ ডলার করেছে ফিফা। রিয়াল মাদ্রিদ বা ম্যানচেস্টার সিটির মতো ইউরোপীয় জায়ান্টরা এই ভান্ডারের সিংহভাগ পেলেও, উন্নয়নশীল দেশের ছোট ক্লাবগুলোও তাদের একজন খেলোয়াড় বিশ্বকাপে পাঠিয়ে যথেষ্ট লাভবান হবে।

টিকিট সম্প্রচার: রেকর্ড দাম

টিকিটের দামও এবার আকাশছোঁয়া। ডাইনামিক প্রাইসিং মডেলে গ্রুপ পর্বের সবচেয়ে সস্তা টিকিটের দাম শুরু ৭০০ ডলার থেকে। আর ফাইনালের ক্যাটাগরি টিকিটের দাম অফিশিয়াল চ্যানেলেই ছাড়িয়েছে ১০ হাজার ডলার। আয়োজক শহরগুলোয় হোটেলের ভাড়া গড়ে ৯০ শতাংশ বেড়েছেরাতপ্রতি গড় ভাড়া ২২৭ থেকে লাফ দিয়ে উঠেছে ৪৮০ ডলারে।

সম্প্রচার অধিকার স্পনসরশিপ থেকে ফিফার প্রত্যাশিত আয় হাজার ৯০ কোটি ডলার। শুধু মিডিয়া রাইটস থেকেই আসবে ৪২০ কোটি ডলার, গ্লোবাল স্পনসর থেকে আরও ২৮০ কোটি ডলার। যুক্তরাষ্ট্রে ইংরেজি স্প্যানিশ সম্প্রচার অধিকার পেয়েছে যথাক্রমে ফক্স টেলেমুন্ডো। ১০৪ ম্যাচের এই ফরম্যাট সম্প্রচারকারীদের জন্য বিজ্ঞাপনের জায়গাও অনেক বাড়িয়ে দিয়েছে।

Related Posts