কবি সাইফুল্লাহ মাহমুদ দুলাল
জীবন দিয়ে
(উৎসর্গ: সাইফুল্লাহ মাহমুদ দুলাল)
সুবোধ সরকার
জীবন দিয়ে কবিতা লেখো জানি
কবিতা মানে গরম ভাত, এক গেলাস পানি।
কবির কোন বাড়ি হয় না, কবিরা গৃহহীন
থাকতে হয় দিতেও হয় নিতেও হয় ঋণ।
তুমি তোমার কবিতা দিয়ে সে ঋণ শোধ করো
হরিণ ছেড়ে গেলেও তার মৃগনাভিকে ধরো।
মৃগনাভির গন্ধ পাই তোমার অক্ষরে
তোমার কাছে আসবো আমি অসাধারণ ভোরে।
আমি তোমার কবিতা চিনি, চিহ্ন ধরে ধরে
তোমার কাছে আসবো আমি অসাধারণ ভোরে।
সাইফুল্লাহ মাহমুদ দুলালের কবিতাঃ বিচিত্র ও বৈচিত্র্যময়
খসরু পারভেজ
কবিতার প্রকৃত সংজ্ঞা নেই, তাই কবিতা বহুগামী। কথাটি ঘুরিয়ে বলা যায়, কবিতা বহুগামী তাই কবিতা কি, তা বলা কঠিন। কবিতার যে বহুগামিতা, বৈচিত্র্য্যময় গতি প্রকৃতি তা সব কবির কবিতায় ধরা পড়ে না। এ কারণে প্রকৃত কবির সংখ্যা সবসময়ই কম। সত্তর দশকের শক্তিমান কবি সাইফুল্লাহ মাহমুদ দুলাল সেই কম সংখ্যকদেরই একজন।
প্রকৃত কবিকে কোনো দশকের বৃত্তে বেঁধে রাখা যায় না। স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে নতুন স্বদেশে অযুত প্রত্যাশা নিয়ে আশা—নিরাশার দোলাচলে কবিতার যে স্বপ্নভূমি রচিত হয়েছিল তারই এক বিরতিবিহীন তূর্যবাদক সাইফুল্লাহ মাহমুদ দুলাল। শুরু থেকে তিনি অদ্যাবধি সমান সচল। গবেষণা, সম্পাদনার অনেক ঈর্ষণীয় কাজ তিনি করে চলেছেন। তবে কবিতাই তাঁর নিরবচ্ছিন্ন বিচরণ ক্ষেত্র।
কবিতার বৈষয়িক বিষয়—আশয়কে মান্য করেই তিনি কবিতায় নিজের অভিজ্ঞতা ও কল্পনাকে প্রকটিত করেন। গতানুগতিক ধারাকে পরিহার করে সহজাত কাব্যচিন্তা ও নিজস্ব কাব্যশৈলীর সমন্বয়ে একটি নিজস্ব স্বাতন্ত্র্যভূমি প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছেন। কবিতায় বরাবরই তিনি পরীক্ষা—নিরীক্ষায় বিশ্বাসী। তাঁর কবিতায় একের ভেতর রয়েছে বহুর উদ্ভাস। রয়েছে বিচিত্র রঙ, বিচিত্র বোধ। উত্তরাধুনিকতার উন্মাতাল সময়ে তিনি রচনা করেছেন দক্ষিণাধুনিক কবিতা। এন্টি পোয়েট্রি হিসেবে লিখেছেন ক্লীব কবিতা। লিখেছেন দৃশ্যকবিতা, গণিতকবিতা, বোটানিকাল পোয়েট্রিসহ বিভিন্ন টেকনিকের কবিতা। কবিতার ইতিহাস হলো তার টেকনিকের ইতিহাস; সমালোচকের এই কথাটির যথার্থ প্রমাণ মেলে সাইফুল্লাহ মাহমুদ দুলালের কবিতায়।
তাঁর কবিতায় অনায়াসে উঠে আসে সমাজ—সমকাল, মানুষ, প্রেম, ঐতিহ্য, ভাষা—সংস্কৃতি। দৈশিক চেতনার পাশাপাশি একটি বৈশ্বিক চেতনা তাঁকে তাড়িত করে। কখনও বিদ্রুপ, ব্যাঙ্গোক্তির মধ্য দিয়ে তিনি চিহ্নিত করেন রাষ্ট্র ও পৃথিবীর ক্ষতচিহ্নকে। অভূতপূর্ব শব্দভান্ডারে, শব্দবন্ধে, চিত্রকল্পের বহুধা ব্যবহারে তাঁর কবিতা বাঙ্ময় হয়ে ওঠে। একটি কবিতাকে বহুমুখী চরিত্র দানে সক্ষম এই কবির কবিতা পাঠে পাঠক বিচিত্র কাব্য রসে সিক্ত হন।
মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, বঙ্গবন্ধু—বাংলাদেশ সাইফুল্লাহ মাহমুদের কবিতার, বলা যায় তাঁর সকল সৃষ্টির অনিবার্য অনুষঙ্গ। এক্ষেত্রে তিনি বলিষ্ঠ, আপোষহীন তাঁর উচ্চারণ।
২.
মুক্তিযুদ্ধ এবং বঙ্গবন্ধু আমাদের অহংকার। সেই গৌরবোজ্জ্বল অহংকারের পতাকা সাহসের সাথে বহন করছেন কবি সাইফুল্লাহ মাহমুদ দুলাল। কারণ তিনি বাংলাদেশকে তাঁর বুকের ভেতর নিবিড়ভাবে লালন করেন।
দুলাল কবিতা লেখার পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে, বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে দুর্দিন—দুঃসময় থেকে গবেষণা করছেন। এখনো প্রবাসে থেকে বঙ্গবন্ধু খুনি নূর চৌধুরীকে এককভাবে লড়াই করছেন, অনুসন্ধানী গ্রন্থ লিখছেন, কাজ করছেন কানাডায় মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নিয়ে।
দুলালের সাহিত্যকর্ম এবং সামাজিক দায়িত্ব নিয়ে তাঁর বন্ধুদের মূল্যবান মূল্যায়ন এরকমÑ
কবি কামাল চৌধুরীঃ দুলালের কবিতার পরিবর্তনটা আমি লক্ষ্য করেছিÑ তাঁর তিন মিনিটের কবিতা কাব্যগ্রন্থ থেকে। মুক্তিযুদ্ধ এবং বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে তাঁর কর্মও উল্লেখ করার মতো।
কবি আসাদ মান্নানঃ কবিরা কবিতা এবং সাহিত্যকর্ম নিয়ে বলেন, অভিবাসী হবার পর দুলালের কবিতার ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। তিনি প্রতিনিয়ত নিজেকে ভাঙছেন, পরীক্ষা—নিরীক্ষা করছেন। তাঁকে আমাদের আরো কাছে দরকার। দুলাল দ্রুত দেশে ফিরে আসবেন এটা প্রত্যাশা করি।
কথাশিল্পী ফারুক মঈনউদ্দীনঃ দুলাল দূর দেশে থাকলেও আমাদের সাথেই থাকেন সব সময়। তবে আমি কবি নই। কবিতার পাঠক হিসেব তার কবিতা পড়ে নতুনত্ব খুঁজে পাই। দুলালের কানাডায় যাবেন কেনো যাবেন, স্মৃতিগদ্য, কানাডায় খুনি নূর চৌধুরী, কানাডায় বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে গ্রন্থগুলো খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
কবি সিরাজুল ইসলাম মুনিরঃ দুলাল অত্যন্ত সাহসী মানুষ। তিনি লেখালেখির পাশাপাশি অনেক সামাজিক—রাজনৈতিক কাজ করেন, সাংবাদিকতা করেন। জীবনের হুমকি তুচ্ছ করে টরন্টোতে খুনি নূর চৌধুরীর বাসায় জুতো ঝুলিয়ে দিয়ে সেখানে দাঁড়িয়ে ফেইসবুক লাইভ করেন আবার অর্ধ শতাব্দী আগের কানাডায় মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে ঐতিহাসিক দায়িত্ব পালন করছেন।
জানা দুলাল যখন চেনা দুলাল
মৃদুল আহমেদ
বাংলা ভাষায় একটি শব্দ আছে ‘চেনাজানা’। চেনা আর জানা এই দুটো শব্দ সমার্থক মনে হলেও দুটোতে বিস্তর ফারাক।
অনেককেই আমরা চিনি। নামে চিনি, পরিচয়ে চিনি। কিন্তু আমরা কি তাকে জানি? জানতে পারি?
আবার এমন হয়, অনেককেই আমরা জানি। কেমন করে তিনি হাসেন, কথা বলেন, কোথায় অফিস করেন, কী তাঁর পছন্দ। কিন্তু কোনো একদিন বুঝতে পারি, মানুষটিকে আসলে আমরা চিনি না। প্রতিদিনের দেখা ঘেরাটোপটির বাইরে তিনি এক অন্য মানুষ।
চেনা আর জানা এই দুটি শব্দের ব্যাপ্তির গভীরতা আর রহস্যময়তা মাপা কঠিন।
এই কঠিনতর কাজটি সহজতর হয়ে ওঠে কঠিন সময়ে। যেমনটি ঘটেছে প্রিয় বড় ভাই, অগ্রজ লেখক সাইফুল্লাহ মাহমুদ দুলালের ক্ষেত্রে।
তার নামটি তো জানা ছিল আগে থেকেই। কবি হিসেবে, লেখক হিসেবে, সাংস্কৃতিক জগতের মানুষ হিসেবে জানাশোনা তো তাঁর ছিলই। ওই জানাটুকু ছিল আমারও। কিন্তু মানুষটাকে চিনতাম কি?
তাকে চিনলাম অনেক কঠিন সময়ে। ২০২৪—এর ৫ আগস্টের পর বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও স্থাপত্যের ওপর যে অশ্লীল অত্যাচার নেমে এল, তার বিপরীতে খুব বেশি মানুষকে দাঁড়াতে দেখিনি। বা দাঁড়াতে দেখলেও শক্ত হাতে নিজের আদর্শের হালটি ধরে দাঁড়াতে দেখিনি।
যেমনটি দেখেছি কবি লেখক সাইফুল্লাহ মাহমুদ দুলালের ক্ষেত্রে। লালবদর এবং তাদের সমর্থক গোষ্ঠীর বিপরীতে তাঁর কণ্ঠটি ছিল সবসময়ই সোচ্চার। তাঁকে ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করে, পরিবারের সদস্যদের ওপর অনলাইনে নোংরাভাবে চড়াও হয়েও তাঁকে দমানো যায়নি।
ছোটখাটো মানুষটির ভেতরে প্রতিবাদের এতটা শক্তি ছিল তা জানতাম না। এই চেনাটুকু শুধুমাত্র কঠিন সময়েই চেনা যায়।
মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের একজন প্রতিবাদী মানুষ হিসেবে দুলাল ভাইকে এই যে চেনাটুকু, তা বড় আনন্দের পাওয়া।
দুলাল ভাই, আপনাকে শুভ জন্মদিন।
আপনার আদর্শের দৃঢ়তা এই জাতির কিছু মেরুদন্ডহীন মানুষদের স্পর্শ করুক, এই কামনা।
আমাদের দুলাল ভাই
নাহার মনিকা
সামনাসামনি নয়, ডাকযোগে সাইফুল্লাহ মাহমুদ দুলাল নামটির সঙ্গে আমাদের পরিচয়। জানতে পারি, তিনি কবি, গীতিকার, রেডিও—টেলিভিশনের জন্য নাটক লেখেন এবং সাংবাদিক।
আমরা তখন উত্তরবঙ্গের ছোট শহর ঠাকুরগাঁওয়ে থাকি। আশির দশকে ঢাকার সঙ্গে সেখানকার দূরত্ব এখনকার চেয়ে কয়েকগুণ বেশি ছিলÑযাতায়াতের সময়, খবরাখবর পৌঁছানো ইত্যাদি নানা কারণে। বাড়িতে বইয়ের সংগ্রহ আর স্থানীয় লাইব্রেরির বইপত্র বাদ দিলে আমরা দৈনিক ইত্তেফাক হাতে পেতাম ছাপা হওয়ার পরদিন।
আমাদের বাড়িতে বই পড়া আর লেখালেখির জন্য উৎসাহ ছিল। ক্লাস নাইনে পড়া আমি ডায়েরির পাতা জুড়ে ছড়া—কবিতা লিখি। আর আমার বড়বোন মেহেরুন্নেসা মেরী যিনি এখন ইডেন কলেজে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের অধ্যাপক, তখন এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছেন, তিনি গল্প লেখেন। তাঁর গল্প পড়ে আমাদের এক আত্মীয় মুগ্ধ হয়ে তা পাঠিয়ে দিলেন ঢাকায়, সাইফুল্লাহ মাহমুদ দুলালের কাছে। বড়পার গল্পটি যে শুধু ছাপা হলো তা—ই নয়, ফিরতি ডাকেই সেই ছাপা হওয়া পত্রিকার সঙ্গে বেশ কয়েকটি লিটল ম্যাগাজিন ও সুন্দর টানা হাতের লেখা চিঠি এসে উপস্থিত!
সে চিঠি এতটাই আন্তরিক ছিল যে, সাইফুল্লাহ মাহমুদ দুলালকে দূরের মানুষ মনে হলো না। চিঠিতেই তিনি আমাদের ‘দুলাল ভাই’ হয়ে উঠলেন।
বড়পার লেখার সঙ্গে একদিন আমিও একটি কবিতা দিলাম। কিছুদিন বাদে সেই কবিতা একটি দৈনিকের সাহিত্য পাতায় ছাপা হয়ে যথারীতি ডাকযোগে আমাদের কাছে পৌঁছাল! কিশোর বয়সে নিজের লেখা ছাপার অক্ষরে দেখার যে আনন্দ, তা সম্ভব হয়েছিল দুলাল ভাইয়ের জন্য। তারপর দু’বছর পার হয়ে গেছে। এর মধ্যে আরও দু—চারটি কবিতা ছাপা হয়েছে।
আমার এসএসসি পরীক্ষার পর আমরা সপরিবারে ঢাকায় বেড়াতে এসেছি। আমরা দুই বোন বাবার কাছে আবদার করেছি, দুলাল ভাইয়ের সঙ্গে দেখা করতে হবে। এক বিকেলে দুলাল ভাই তাঁর এক বন্ধুকে সঙ্গে নিয়ে দেখা করতে এলেন। তাঁর সহজ আন্তরিকতা আমাদের খুব ভাল লাগল। সেই থেকে তাঁর স্নেহ পেয়ে আসছি।
বড়পা জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে, আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর তাঁদের পরিবারের সঙ্গেও যোগাযোগ বেড়েছে। চার ভাইয়ের মধ্যে দুলাল ভাই বড়, আর কবি শিহাব শাহরিয়ার সবচেয়ে ছোট। মাঝের দুইজন শফিক ও নোমান ভাইসহ সকলেই সহজ, আন্তরিক ও মিষ্টি স্বভাবের।
মিরপুরের বাসিন্দা হওয়ার সুবাদে চিত্রশিল্পী ও কবি রাকীব হাসান দুলাল ভাইয়ের চেনা। তাঁর সম্পাদিত ‘আর্ব্ধ’ নামের লিটল ম্যাগাজিনে কবি সাইফুল্লাহ মাহমুদ দুলালের বড় সাক্ষাৎকার প্রকাশিত হয়েছে। আমার কবিতাও দুলাল ভাই ‘আর্ব্ধ’—তে ছাপিয়েছেন। তারপর একদিন বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় আমাদের পরিচয় করিয়ে দিলেন। সেই পরিচয় দীর্ঘ হয়ে প্রণয়, তারপর পরিণয়ে গড়াল। আমাদের বিয়েতে দুলাল ভাই সস্ত্রীক উপস্থিত ছিলেন। দুই তরফের সংযোগের কারণে আমাদের কন্যারা দুলাল ভাইকে মামা ও চাচার মিশেলে ‘দুলাল মাচা’ বলে ডাকে।
আমাদের বিদেশবাসের কারণে বেশ অনেকদিন পর যখন কানাডায় দুলাল ভাইকে দেখলাম, মনেই হয়নি যে দীর্ঘদিন দেখা হয়নি। আমরা মন্ট্রিয়লে, আর দুলাল ভাই টরন্টো শহরে। কোনো না কোনো উপলক্ষে দেখা হয়ে যায়। দুলাল ভাইয়ের মেয়ের বিয়েÑআমরা যাব না, তাই কি হয়? ছয় ঘণ্টা গাড়ি চালিয়ে ছুটে যাই। মেয়ে—জামাইকে নিয়ে দুলাল ভাইও আমাদের বাড়িতে বেড়াতে আসেন।
সাইফুল্লাহ মাহমুদ দুলাল কবি, সাংবাদিক, লেখক, শিশুসাহিত্যিক, প্রকাশক—সর্বোপরি সকলের সঙ্গে সংযোগ রক্ষাকারী একজন সংবেদনশীল মানুষ। তাঁর লেখালেখির পেছনের সংগ্রামের কাহিনীটিও খুব ক্ষুদ্র নয়। সবদিক সামাল দিয়ে নিরন্তর কবিতা লিখে চলেছেন। ‘তৃষ্ণার্ত জলপরী’ বইয়ের লিরিক্যাল কবিতাগুলোর পরে নাসিমা সুলতানার সঙ্গে যৌথভাবে লিখলেন ‘তবুও কেউ কারো নই’। নাসিমা সুলতানা নামের প্রতিভাবান এই কবিকে এখন আর কেউ মনে করে না, কিন্তু দুলাল ভাই প্রায়ই তাঁকে স্মরণ করেন।
প্রচুর কবির কথা জানি, যাদেরকে কবিতা ছেড়ে যায়; কিন্তু দুলাল ভাইকে কবিতা ছেড়ে যায় না। তিনি বাসে, ট্রেনের ভিড়ের মধ্যেও বসে কবিতা লিখে ফেলেন। নানান বিষয় নিয়ে গদ্য, কবিতা, ছড়া ইত্যাদি মিলিয়ে তাঁর রচিত বইয়ের তালিকাও বেশ দীর্ঘ।
কবি হয়ে, লেখালেখিতে নিরত থেকেও সাইফুল্লাহ মাহমুদ দুলালের সাংসারিক জীবনে কোনো অসঙ্গতি দেখা যায় না। পেশাগতভাবে অত্যন্ত সফল দুই কন্যা অনাদি ও অর্জিতার বাবা, স্ত্রীর প্রতি যত্নশীল স্বামী, স্নেহশীল অগ্রজ, এসব ভূমিকা পালনে তাঁর কোনো ত্রুটি নেই। সংসারে সফল একজন হয়েও যে সাহিত্যচর্চা করা যায়, দুলাল ভাই তার উজ্জ্বল উদাহরণ হতে পারেন।
আমাদের দেশ ও দেশের ইতিহাস বিষয়ে তাঁর দৃঢ় অবস্থানের কথা এখন কমবেশি সকলেরই জানা। মুক্তিযুদ্ধ ও বঙ্গবন্ধুর প্রতি এমন নিবেদিতপ্রাণ মানুষ খুব বেশি দেখা যায় না। এ বিষয়ে যে কোনো অসামঞ্জস্যের তীব্র প্রতিবাদ করেন। যখন স্রোতের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে পড়েন, তখন একা, সম্পূর্ণ নিজের সামর্থ্যে প্রতিবাদে বহুগুণ হয়ে ওঠেন সাইফুল্লাহ মাহমুদ দুলাল।
তাঁর সুস্থ ও দীর্ঘজীবন কামনা করি। সাহিত্য, সমাজ, সংসারের মায়ায় এবং দেশ ও মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাসের পক্ষে থাকার জন্য তাঁর মতো মানুষ খুব প্রয়োজন।
