নিউইয়র্ক কনস্যুলেটে স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপন

নিউইয়র্কঃ মহান স্বাধীনতা জাতীয় দিবস উপলক্ষে জাতিসংঘে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশন বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল, নিউইয়র্কএর যৌথ উদ্যোগে গত ১০ এপ্রিল সন্ধ্যায় কনস্যুলেট জেনারেল প্রাঙ্গণে অভ্যর্থনার আয়োজন করা হয়। উক্ত অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বীর মুক্তিযোদ্ধা, বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব এবং প্রবাসী বাংলাদেশী কমিউনিটির বিশিষ্ট সদস্যবৃন্দের উপস্থিতি তাৎপর্যমন্ডিত করে। বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়। পরে স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসভিত্তিক একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শিত হয়। 

জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত সালাহউদ্দিন নোমান তাঁর বক্তব্যে মুক্তিযুদ্ধে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অসামান্য অবদান, শহীদ মুক্তিযোদ্ধা, শহীদ বুদ্ধিজীবী এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা বীরাঙ্গনাদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। তিনি মহান স্বাধীনতার মৌলিক লক্ষ্যÑএকটি গণতান্ত্রিক, দারিদ্র্য বৈষম্যমুক্ত, ন্যায়ভিত্তিক, মানবিক আধুনিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সম্মিলিত প্রচেষ্টার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বাংলাদেশের বিপুল সম্ভাবনাকে কার্যকরভাবে কাজে লাগিয়ে একটি গতিশীল, আত্মপ্রত্যয়ী উন্নত জাতি হিসেবে এগিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে নতুন প্রজন্মের প্রত্যাশা পূরণে সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচন আমাদের গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতি অঙ্গীকারকে আরও সুদৃঢ় করেছে এবং শান্তিপূর্ণ সুশৃঙ্খলভাবে ক্ষমতা হস্তান্তরের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার বহুমাত্রিক সম্পর্ক জোরদারে প্রবাসী বাংলাদেশীদের অবদান অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ এবং ভবিষ্যতেও অবদান আরও সুদৃঢ় হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি স্বাধীনতার চেতনা সমুন্নত রাখার লক্ষ্যে জাতীয় ঐক্য, সংহতি সম্মিলিত দায়িত্ববোধের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। 

স্বাগত বক্তব্যে কনসাল জেনারেল মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক মহান স্বাধীনতা জাতীয় দিবস উপলক্ষে উপস্থিত সকলকে আন্তরিক শুভেচ্ছা অভিনন্দন জানান। তিনি গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করেন, শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকেযিনি চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। সময়োচিত সাহসী এই ঘোষণা দেশের সাধারণ মানুষকে সঠিক দিক নির্দেশনা প্রদান করে। তিনি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন বাংলাদেশের সেই সূর্য সন্তানদের, যারা স্বাধীনতার জন্য নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেছেন। তিনি একই সঙ্গে গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন সেই দূরদর্শী নেতৃবৃন্দের প্রতি, যারা আন্দোলনকে সঠিক পথে পরিচালিত করেছেন; সাহসী মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি; সেইসব মা বোনদের প্রতি, যারা অকল্পনীয় ত্যাগ স্বীকার করেছেন; এবং বাংলাদেশের দৃঢ়চেতা জনগণের প্রতি, যাদের অটল মনোবল আমাদের স্বাধীনতাকে সম্ভব করেছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রাজ্ঞ দূরদর্শী নেতৃত্বে বাংলাদেশ উন্নয়ন, স্থিতিশীলতা অগ্রগতির ধারাবাহিকতা বজায় রেখে একটি সমৃদ্ধ মর্যাদাশীল রাষ্ট্র হিসেবে বিশ্ব পরিমণ্ডলে আরও সুপ্রতিষ্ঠিত হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। 

অভ্যর্থনা অনুষ্ঠান বাংলাদেশী শিল্পীদের সুরের মূর্ছনায় আরো প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।

Related Posts